সর্বশেষ খবর

10/recent/ticker-posts

আজ ৮ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ - সামিরা খাতুন পাশা।।BDNews.in


বিডি নিউজ ডেস্কঃ অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিকসহ উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশীদারি এবং সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারিভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে।

১৯১০ সালের ৮ মার্চ নিউ ইয়র্কের সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানাতে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়ে থাকে। জাতিসংঘ ১৯৭৫ সাল থেকে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন শুরু করে।

এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হলো -- "নারীর সমঅধিকার, সমসুযোগ এগিয়ে নিতে হোক বিনিয়োগ।"

আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে এ দিনটি পালন প্রহসন ছাড়া আর কি?

নারীর কখনো শৈশব, কৈশোর, যৌবন থাকে না। ভূমিষ্ট হওয়া থেকেই সে নারী!! লাঞ্চিত হওয়া শুরু সেখান থেকেই!!! নারীর কখনো নিজের ইচ্ছার মূল্য থাকে না – থাকতে নেই। মহানবী (সাঃ) বলেছিলেন, “আল্লাহর পর কাউকে সেজদা করার বিধান থাকলে স্ত্রীকে বলতাম তার স্বামীকে সেজদা করতে।“ তারপরও বিশ্বের বা অন্য ধর্মের কথা জানি না, আমাদের কথা জানি ---‘পতি পরম গুরু’ মনে করেই আমরা পথ চলি যে যত শিক্ষিতই হই না কেন ( অল্প সংখ্যক ছাড়া)। 

অথচ হাদিস আছে ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত”। এটা পুরুষের মাঝে ফলাও করার জন্য আমরা আবার দিবস পালন করি। আরে ভালবাসা কি চেয়ে হয় নাকি জোর করে হয়? যে পুরুষ সম্মান দেয় না সে কোনোদিনও দেয় না। যে দেয় সে চিরকালই দেয়। আমরা নিজেরাই সমাজ ব্যবস্থা মেনে নিয়েছি। একজন প্রেমিকও তার প্রেমিকাকে শাসন করে আর প্রেমিকাটা তার কথাই মেনে নেয়। 

আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেতো এটা আরো। এটা কায়দা করে বেঁচে থাকার জন্য মেনে নেয়া এবং মানিয়ে নেয়া --- সমাজে ভারসাম্যতা রক্ষা করা। যুগ যুগ ধরেই পৃথিবীতে শাসক আর শোসিত থাকবেই সেটা প্রতিটি স্তরে। প্রয়োজন শুধু দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো। সেটা নারী পুরুষ উভয়েরই। বিডিআর হত্যাকান্ডেও দেখা যায় মেজর শাকিলের স্ত্রীর সাথে চতুর্থ শ্রেনির একজন পুরুষের অশোভন আচরণ--- এখানে তার পরিচয় তিনি একজন নারী! নারীর আবার পদমর্যাদা থাকে নাকি? 

আমাদের সমাজের যে নারীরা এগিয়ে তারা স্বচেষ্টায় নানা ঘাত- প্রতিঘাত পেড়িয়েই তা সম্ভব করেছে। তারপরও যে নেতিবাচক প্রভাব কিছু পড়ে না তা কিন্তু নয়। সমালোচনা, বাধা নারীকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিবার থেকে ব্যাকডেটেড মানসিকতা নিয়ে বড় হই নি। আমরা তিন ভাই-বোন সমানভাবে চলেছি। আমার পথচলা ছিল সাবলিল, বাঁধাহীন। এখনো স্বামীর কাছে এসেও হয়েছে তাই। তারপরও যে বাঁধাটা আছে তা সমাজ ব্যবস্থার। সেটা অতটা ভ্রুক্ষেপ করি না আমি। আমাদের নারীর জন্য দরকার এমন সাপোর্টেড, সমমনা পরিবার। তাহলেই তো সমাজ বদলায়, তারপর বদলায় রাষ্ট্র। 

আমারতো মনে হয় নারীকেই নারী অগ্রগায়নে বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে। কেননা আমাদের সমাজে বেশিরভাগ নারীই চার দেয়ালের ভেতর থেকে শোসিত হওয়ার মানসিকতা নিয়ে নিজেকে তৈরি করে। একটু বড় হলেই পুরুষের ঘাড়ে চেপে বসবে এ স্বপ্ন নিয়ে বিভোর থাকে। যে নারী স্বনির্ভর তার সমালোচনা, কুৎসা সেসব ঘাড়ে চেপে বসতে চাওয়া নারীরাই রটাই। সকল নারীই যদি নিজের যোগ্যতা, অধিকার, ক্ষমতা, আত্মসম্মানবোধ নিয়ে তৎপর হত তাহলে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এত বাঁধা হতে পারত না। 

আমি দেখেছি অনেক স্বামী তার স্ত্রীর নামে বা বাবা তার মেয়ের নামে ব্যাংকেও টাকা রাখেন না অবিশ্বাস থেকে। এটা যে একটা অপমান এ বোধটা তো অন্তত থাকতে হবে --- না হলে প্রতিবাদ হবে কিভাবে? আমাদের ভুললে চলবে না শৌর্যে, বির্যে আল্লাহ পুরুষকে করেছেন শ্রেষ্ঠ আর ফার্টিলাইজেশন করান নারী দিয়ে। কাউকে ছাড়া কারো চলে না। স্ব স্ব স্থানে থেকে ভূমিকাটা যার যার তার তার। তাই প্রয়োজন একে অপরের প্রতি সম্মানবোধ। নারীর অবস্থানে থেকে মানুষ হয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং সহায়তা করা হোক সবার অঙ্গিকার। কতিপয় পশুত্ব মানসিকতার কঠোর আইনের প্রয়োগে হোক নির্মূলের ব্যবস্থাপনা। আজকের নারী দিবসে এই প্রত্যাশাই করি।

সামিরা খাতুন পাশা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ